আজ তিন মাস হয়েছে
আধার আর অঞ্জন বিয়ে
করেছে । দুজনের
পরিবারের কেউই ওদের বিয়েটাকে
মেনে নেয়নি । দুজন
দুজনকে অনেক ভালবাসে আর
তাই কেউ কাউকে যেন
হারাতে না পারে সেই
জন্য দুজনের এই সিদ্ধান্তে
আসা । অঞ্জন
পড়াশুনা শেষ করে চাকুরীর
ইন্টার্ভিউ দিতে দিতে একরকম
ক্লান্ত হয়ে গেছে ।
আর আধার বিবিএ প্রথম
বর্ষের ছাত্রী । এই
অবস্থায় বিয়ে করে সংসার
করা , এ যেন হিমালয়
বিজয়ের চেয়েও কঠিন একটা
কাজ ! কিন্তু তারপরও এই
কঠিন কাজ করতে হয়েছে
কারন আধারর বাবা মা
প্রবাসী এক ছেলে পেয়ে
উম্মাদ হয়ে গেছেন ! অঞ্জন
ভেবে পায়না বাবা মা
পয়সা ওয়ালা ছেলে পেলেই
মেয়েকে বিয়ে দেয়ার জন্য
কেন এত উদগ্রীব হয়
! অঞ্জনের কিছুটা রাগ ঐ
প্রবাসী ছেলেদের প্রতিও "আরে ভাই টাকার
জোরে , ক্ষমতার জোরে বিদেশে গেছিস
, আমাদের মত হাজারও বাঁধার
তো সম্মুখীন হয়ে , জানটাকে হাতে
নিয়ে আতঙ্কের মাঝে থেকে সার্টিফিকেট
নিস নাই! আবার তোঁদের
থেকে ভাল রেজাল্ট করেও
আমার মত চাকরীর জন্য
জুতার তলা ফুঁটা করিস
নাই ! সব কষ্ট করলাম
আমি , প্রাণ দিয়া বছরের
পর বছর ভালোবাসলাম আমি
আর বিয়া কইরা সংসার
করবা তুমি , এইডা কিমন
কথা ! এ হইতে দেয়া
যায় না -যা থাকে
কপালে ! এ হার মানুম
না জীবনের কাছে , বিবেকের
কাছে । দেবদাস
তুমি হইবা আমি না
-হাহাহা " আপন মনে কথাগুলো
বলে বেশ আনন্দ পায়
অঞ্জন ।
বিয়ের পরে একটা কাপড়ের দোকানে কাজ পায় সে ! কেমন চলে সংসার চলে টা খুব সহজেই অনুমেয় ! কষ্ট নেই কারন আধার যে পাশে আছে । কিন্তু বাঁধ সাধে নিয়তি , পরিহাস করে ঈশ্বর ! দুমাস না যেতেই আধার আভাস দেয় মা হবার ! এটাতো সম্ভব নয় ! নিজেদেরকে নিয়ে এখনও ভাব্বার সময় শেষ হল না সেখানে আর একটা বাড়তি ভাবনা তাও এমন গুরুতর দায়িত্ব ! এটা কি করে ম্যানেজ করবে অঞ্জন ? আধারও জানে এটা অসম্ভব একটা ব্যাপার কিন্তু কি করবে সে এখন ? সিদ্ধান্ত নিতে নিতে দুইটা মাস আরো চলে যায় । আধার মাকে ভীষণভাবে মনে করে ! সে জানে মা অভিমান করে আছে ওর উপর । ও যদি একবার কথা বলে , বাবার অগোচরে হলেও মা আধারকে ক্ষমা করে দেবে । "আচ্ছা মায়ের সাথে কি একবার পরামর্শ করবে ? না না মা যদি আরো রেগে যায় তাহলে !" আপন মনে ভাবে সে ।
অঞ্জনের সাথে মিলে সিদ্ধান্ত নেয় কাল ক্লিনিকে যাবে ! কি এক অজানা চাওয়া আধারর মনটাকে খারাপ করে দেয় ।
- "মাগো , তোমার কি অনেক খারাপ লাগছে ?"
-কেন ? আমার কেন খারাপ লাগবে ?
-এই যে আমাকে অন্ধকারেই রেখে যাচ্ছ বলে !
-তুমি কে ?
-মাগো , আমি তোমার কোল জুড়ে থাকতে চাই মা !
-কি সুন্দর দেখতে তুমি ! ঠিক তোমার মতই একটা ছবি ...হ্যাঁ হ্যাঁ মনে পড়েছে , আমার মায়ের বাসায় আমার ঘরে সাইড টেবিলে রাখা আছে ! সেই চোখ , নাক , ঠোঁট , কোঁকড়া চুল !
-তুমি এখনও আমাকে চিনতে পারলে না মামণি !
-আমাকে মা বলছ ! কে তুমি ,কে? এতো হাসছ কেন ? আকাশের সব তাঁরা কেন ঝরে পড়ছে ! কে কে তুমি !
আধারর মাথায় অঞ্জনের হাত -
"আরে কি হয়েছে তোমার কে কে করছ কেন ? আমি , এই দেখ আমি । ঘুমের মাঝে আবার কাকে দেখছ !"
আধার চোখ মেলে দেখে অঞ্জন । সারা রাত আর ঘুমাতে পারে না ! শুধু নিজের পেটে হাত দিয়ে খুজতে থাকে কিছু অনুভুতি ।
পরের দিন অনিচ্ছা স্বত্বেও ক্লিনিকে যায় । এইসব ক্লিনিকের নামও শোনেনি আধার কোনদিন । কি নোংরা আর গন্ধ । আধার এর মন সায় দেয়না কিন্তু কিছু বলতেও পারে না অঞ্জনকে । শুধু শুন্য দৃষ্টিতে কি যেন খুঁজে ফেরে ! কাজ শেষ করে ঐদিনই ফিরে আসে দুজন বাসায় কিন্তু আধারর অবস্থা খুব খারাপ হয়ে যায় । প্রচন্ড পেটে ব্যাথা আর জ্বর । কোন ঔষধে কিছুই হয় না ।
-"আমি খুন করেছি , আমি খুনি । আমি মেরে ফেলেছি ! খুব খুব সুন্দর একটা বাচ্চাকে আমি মেরে ফেলেছি !" প্রলাপ বকে চলে আধার ।রাতটা কোন রকম কাটিয়ে সকালেই বাসার পাশের একটা ক্লিনিকে নিয়ে যায় অঞ্জন । সেখানেই ডাক্তারের কথাশুনে যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ে অঞ্জনের মাথায় । ডাক্তার বলে - " বাচ্চা এবর্শন হয়নি । বাচ্চা রয়ে গেছে ভিতরে । ঐসব ক্লিনিক নামে মাত্র , ব্যবসার জন্য কিছু ভন্ড লোকের কারসাজি । ওরা টাকার বিনিময়ে এইসব কাজ করে থাকে । এখন আবার ক্লিয়ার করতে হবে আর এতে করে বেশ কিছু টাকাও লাগবে ।"
অঞ্জন বন্ধুদের কাছ থেকে টাকা ধার করে আধারকে দুদিন ক্লিনিকে রেখে দেয়। আধার সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরে আসে । কিন্তু এ এক অন্য আধার ! আগের সেই উচ্ছলতা বা প্রাণ নেই তার মাঝে । প্রায় রাতে সে স্বপ্ন দেখে একটা ফুটফুটে বাচ্চা তাকে বলে "মা আমাকে মেরে ফেললে মা ! আমি তোমার কোলে এসে তোমার জীবনটাকে আলোকিত করতে চেয়েছি ! তোমাকে খুশির ঝর্ণা ধারায় ভিজাতে চেয়েছি আর তুমি আমাকে ..." আধার শুধু অসহায়ের মত কেঁদে যায় । অঞ্জন তার নিজের কষ্টটাকে নিজের মনেই চেপে রাখে , এমন ঘটনা জীবনে আসবে তা সে কোনোদিনই ভাবেনি !
একটা বছর অনেক খেঁটে অঞ্জন নিজেই একটা কাপড়ের দোকান খুলে বসে । আধারর বাবা মাও মেনে নেয় ওদেরকে । হাজার হোক সন্তানকে রেখে কি বাবা মা বেশীদিন থাকতে পারে ! বাবা একটু দেরীতে কথা বলেছে কিন্তু মা ! মা আধারকে ছেড়ে থাকতে পারেনি । কোন মা -ই যে পারে না । সংসারে কিছুটা সচ্ছলতা ফিরে আসে আর তখনই আধার সুসংবাদটা দেয় অঞ্জনকে ! অঞ্জন বাবা হবার আনন্দে মিষ্টি হাতে হাজির হয় নিজের বাবা মায়ের কাছে । তাঁরাও অনেক খুশি । দাদা দাদী হবে এর চেয়ে আনন্দ আর কি হতে পারে ! সবাই আধারকে নজরে নজরে রাখে ! আধার আবার সেই স্বপ্ন দেখে সেই মেয়েটির ছবি তবে এবার মেয়েটি আধারকে এক আকাশ তাঁরার মালা গেঁথে গলায় পরিয়ে দেয় ! দুজনে কত কথা বলে -আধার হেঁসে গড়াগড়ি খায় , সাথে মেয়েটিও ! আধারর খুশি দেখে অঞ্জনেরও অনেক ভাল লাগে । নিজেকে খুব বড় বেশী সুখি সুখি মনে হয় । একদিন খুব ভোরে আধার অনুভব করে এখন তাঁর ক্লিনিকে যাবার সময় । অঞ্জনকে বলতেই ঝড় বেগে ছুটে যায় সবাই ক্লিনিকে । পূবাকাশে রক্তিম আভা নিয়ে উদিত হয় উজ্জ্বল সূর্য আর এদিকে আধারর কোল জুড়ে আসে ঠিক সোনালী ফ্রেমে দেখা সেই মেয়েটি ! আধারর মা শুভ্র-নীল মখমলে কাপড়ে ঢাকা সদ্যফোটা ফুলটাকে কোলে নিয়েই অবাক বিস্ময়ে বলে উঠে
- "আরে !এযে আমার ছোট্ট সোনামনি আধার !" তারপর একটু একটু করে মখমলের কাপড় সরাতেই আঁতকে উঠে চিৎকার দিয়ে উঠে আর একটু হলে কোল থেকে ফেলেই দিত "আরে একি ! হায় আল্লাহ একি খেলা তোমার ! " হু হু করে কেঁদে উঠে !
আধারর কোল থেকে এই ছোট্ট সোনাটা কোনদিন হাঁটতে শিখবে না ! সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিলে হয়ত সেদিন একটা জীবনকে হত্যা করতে হত না ! আধার ধরে নেয় এ সব তার এবং অঞ্জনেরই ভুল ! এ প্রায়শ্চিত্ত বাবা মা হিসাবে তাদের একান্তই প্রাপ্য ! অঞ্জন শাশুড়ীর কোল থেকে দুহাতে বেঁধে নেয় আপন অস্তিত্বকে ! বুকভরা ভালবাসায় এগিয়ে দেয় আধারর কোলে । আধার মা হবার আনন্দে পরম আদরভরা স্নেহে বুকে জড়িয়ে ধরে চাঁদটাকে । আলতো করে চুমু এঁকে দেয় রূপালী কপালে !
বিয়ের পরে একটা কাপড়ের দোকানে কাজ পায় সে ! কেমন চলে সংসার চলে টা খুব সহজেই অনুমেয় ! কষ্ট নেই কারন আধার যে পাশে আছে । কিন্তু বাঁধ সাধে নিয়তি , পরিহাস করে ঈশ্বর ! দুমাস না যেতেই আধার আভাস দেয় মা হবার ! এটাতো সম্ভব নয় ! নিজেদেরকে নিয়ে এখনও ভাব্বার সময় শেষ হল না সেখানে আর একটা বাড়তি ভাবনা তাও এমন গুরুতর দায়িত্ব ! এটা কি করে ম্যানেজ করবে অঞ্জন ? আধারও জানে এটা অসম্ভব একটা ব্যাপার কিন্তু কি করবে সে এখন ? সিদ্ধান্ত নিতে নিতে দুইটা মাস আরো চলে যায় । আধার মাকে ভীষণভাবে মনে করে ! সে জানে মা অভিমান করে আছে ওর উপর । ও যদি একবার কথা বলে , বাবার অগোচরে হলেও মা আধারকে ক্ষমা করে দেবে । "আচ্ছা মায়ের সাথে কি একবার পরামর্শ করবে ? না না মা যদি আরো রেগে যায় তাহলে !" আপন মনে ভাবে সে ।
অঞ্জনের সাথে মিলে সিদ্ধান্ত নেয় কাল ক্লিনিকে যাবে ! কি এক অজানা চাওয়া আধারর মনটাকে খারাপ করে দেয় ।
- "মাগো , তোমার কি অনেক খারাপ লাগছে ?"
-কেন ? আমার কেন খারাপ লাগবে ?
-এই যে আমাকে অন্ধকারেই রেখে যাচ্ছ বলে !
-তুমি কে ?
-মাগো , আমি তোমার কোল জুড়ে থাকতে চাই মা !
-কি সুন্দর দেখতে তুমি ! ঠিক তোমার মতই একটা ছবি ...হ্যাঁ হ্যাঁ মনে পড়েছে , আমার মায়ের বাসায় আমার ঘরে সাইড টেবিলে রাখা আছে ! সেই চোখ , নাক , ঠোঁট , কোঁকড়া চুল !
-তুমি এখনও আমাকে চিনতে পারলে না মামণি !
-আমাকে মা বলছ ! কে তুমি ,কে? এতো হাসছ কেন ? আকাশের সব তাঁরা কেন ঝরে পড়ছে ! কে কে তুমি !
আধারর মাথায় অঞ্জনের হাত -
"আরে কি হয়েছে তোমার কে কে করছ কেন ? আমি , এই দেখ আমি । ঘুমের মাঝে আবার কাকে দেখছ !"
আধার চোখ মেলে দেখে অঞ্জন । সারা রাত আর ঘুমাতে পারে না ! শুধু নিজের পেটে হাত দিয়ে খুজতে থাকে কিছু অনুভুতি ।
পরের দিন অনিচ্ছা স্বত্বেও ক্লিনিকে যায় । এইসব ক্লিনিকের নামও শোনেনি আধার কোনদিন । কি নোংরা আর গন্ধ । আধার এর মন সায় দেয়না কিন্তু কিছু বলতেও পারে না অঞ্জনকে । শুধু শুন্য দৃষ্টিতে কি যেন খুঁজে ফেরে ! কাজ শেষ করে ঐদিনই ফিরে আসে দুজন বাসায় কিন্তু আধারর অবস্থা খুব খারাপ হয়ে যায় । প্রচন্ড পেটে ব্যাথা আর জ্বর । কোন ঔষধে কিছুই হয় না ।
-"আমি খুন করেছি , আমি খুনি । আমি মেরে ফেলেছি ! খুব খুব সুন্দর একটা বাচ্চাকে আমি মেরে ফেলেছি !" প্রলাপ বকে চলে আধার ।রাতটা কোন রকম কাটিয়ে সকালেই বাসার পাশের একটা ক্লিনিকে নিয়ে যায় অঞ্জন । সেখানেই ডাক্তারের কথাশুনে যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ে অঞ্জনের মাথায় । ডাক্তার বলে - " বাচ্চা এবর্শন হয়নি । বাচ্চা রয়ে গেছে ভিতরে । ঐসব ক্লিনিক নামে মাত্র , ব্যবসার জন্য কিছু ভন্ড লোকের কারসাজি । ওরা টাকার বিনিময়ে এইসব কাজ করে থাকে । এখন আবার ক্লিয়ার করতে হবে আর এতে করে বেশ কিছু টাকাও লাগবে ।"
অঞ্জন বন্ধুদের কাছ থেকে টাকা ধার করে আধারকে দুদিন ক্লিনিকে রেখে দেয়। আধার সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরে আসে । কিন্তু এ এক অন্য আধার ! আগের সেই উচ্ছলতা বা প্রাণ নেই তার মাঝে । প্রায় রাতে সে স্বপ্ন দেখে একটা ফুটফুটে বাচ্চা তাকে বলে "মা আমাকে মেরে ফেললে মা ! আমি তোমার কোলে এসে তোমার জীবনটাকে আলোকিত করতে চেয়েছি ! তোমাকে খুশির ঝর্ণা ধারায় ভিজাতে চেয়েছি আর তুমি আমাকে ..." আধার শুধু অসহায়ের মত কেঁদে যায় । অঞ্জন তার নিজের কষ্টটাকে নিজের মনেই চেপে রাখে , এমন ঘটনা জীবনে আসবে তা সে কোনোদিনই ভাবেনি !
একটা বছর অনেক খেঁটে অঞ্জন নিজেই একটা কাপড়ের দোকান খুলে বসে । আধারর বাবা মাও মেনে নেয় ওদেরকে । হাজার হোক সন্তানকে রেখে কি বাবা মা বেশীদিন থাকতে পারে ! বাবা একটু দেরীতে কথা বলেছে কিন্তু মা ! মা আধারকে ছেড়ে থাকতে পারেনি । কোন মা -ই যে পারে না । সংসারে কিছুটা সচ্ছলতা ফিরে আসে আর তখনই আধার সুসংবাদটা দেয় অঞ্জনকে ! অঞ্জন বাবা হবার আনন্দে মিষ্টি হাতে হাজির হয় নিজের বাবা মায়ের কাছে । তাঁরাও অনেক খুশি । দাদা দাদী হবে এর চেয়ে আনন্দ আর কি হতে পারে ! সবাই আধারকে নজরে নজরে রাখে ! আধার আবার সেই স্বপ্ন দেখে সেই মেয়েটির ছবি তবে এবার মেয়েটি আধারকে এক আকাশ তাঁরার মালা গেঁথে গলায় পরিয়ে দেয় ! দুজনে কত কথা বলে -আধার হেঁসে গড়াগড়ি খায় , সাথে মেয়েটিও ! আধারর খুশি দেখে অঞ্জনেরও অনেক ভাল লাগে । নিজেকে খুব বড় বেশী সুখি সুখি মনে হয় । একদিন খুব ভোরে আধার অনুভব করে এখন তাঁর ক্লিনিকে যাবার সময় । অঞ্জনকে বলতেই ঝড় বেগে ছুটে যায় সবাই ক্লিনিকে । পূবাকাশে রক্তিম আভা নিয়ে উদিত হয় উজ্জ্বল সূর্য আর এদিকে আধারর কোল জুড়ে আসে ঠিক সোনালী ফ্রেমে দেখা সেই মেয়েটি ! আধারর মা শুভ্র-নীল মখমলে কাপড়ে ঢাকা সদ্যফোটা ফুলটাকে কোলে নিয়েই অবাক বিস্ময়ে বলে উঠে
- "আরে !এযে আমার ছোট্ট সোনামনি আধার !" তারপর একটু একটু করে মখমলের কাপড় সরাতেই আঁতকে উঠে চিৎকার দিয়ে উঠে আর একটু হলে কোল থেকে ফেলেই দিত "আরে একি ! হায় আল্লাহ একি খেলা তোমার ! " হু হু করে কেঁদে উঠে !
আধারর কোল থেকে এই ছোট্ট সোনাটা কোনদিন হাঁটতে শিখবে না ! সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিলে হয়ত সেদিন একটা জীবনকে হত্যা করতে হত না ! আধার ধরে নেয় এ সব তার এবং অঞ্জনেরই ভুল ! এ প্রায়শ্চিত্ত বাবা মা হিসাবে তাদের একান্তই প্রাপ্য ! অঞ্জন শাশুড়ীর কোল থেকে দুহাতে বেঁধে নেয় আপন অস্তিত্বকে ! বুকভরা ভালবাসায় এগিয়ে দেয় আধারর কোলে । আধার মা হবার আনন্দে পরম আদরভরা স্নেহে বুকে জড়িয়ে ধরে চাঁদটাকে । আলতো করে চুমু এঁকে দেয় রূপালী কপালে !