রবিবার, ২০ মে, ২০১২

ভালোবাসা ব্যাপারটা আমার কাছে একটা চরম কুহেলিকার মত লাগত। অবশ্য শুধু আমি না রবীন্দ্রনাথের মত মানুষও ভালোবাসার দার্শনিক বিচার করতে গিয়ে ঘোল খেয়েছে -

সখী, ভালোবাসা কারে কয় ! সে কি কেবলই যাতনাময় ।
সে কি কেবলই চোখের জল ? সে কি কেবলই দুখের শ্বাস ?
লোকে তবে করে কী সুখেরই তরে এমন দুখের আশ ।

আমার বহু সহপাঠীকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম - “আচ্ছা তোর কাছে কি মনে হয়, ভালোবাসাটা আসলে কী? প্যাশন না ক্যালকুলেশন?” বিশ্ববিদ্যালয় জ়ীবনে চারপাশের অনেক ছেলেমেয়েকে দেখে খুব দ্বিধায় ছিলাম। পরে বুঝলাম এরা ভালোবাসার নামে একটা খেলা করে, সময় কাটাতে। ক্যালকুলেশন দিয়ে রিলেশন হতে পারে ভালোবাসা নয়। বিয়ের আগে যেমন এক পক্ষ অপর পক্ষের উচ্চতা, ফেয়ারনেস স্কেল, ব্যাংক ব্যালেন্স এবং অন্যান্য সম্পদ ইত্যাদির চুলচেরা হিসাব করে তারপর সম্বন্ধ করে, তেমনি হিসেব করতে দেখতাম অনেক ছাত্র-ছাত্রীকে - কাকে ভালোবাসবে সেই হিসাব।

তারপরেও আমি ভালোবাসা ব্যাপারটা ঠিক সংজ্ঞায়িত করতে পারতাম না। যেমন আমার হ্রদয় মাত্র একটা, কিন্তু আমি ভালোবাসি অনেককে - আমার সৃষ্টিকর্তা-প্রতিপালক আল্লাহ, আমার পথ প্রদর্শক মুহাম্মাদ (সাঃ), আমার বাবা-মা-ভাই, আমার স্ত্রী, আমার বন্ধুরা, আমার নিজেকে, আমার আত্মীয়-স্বজনেরা এবং বিভিন্নসূত্রে পরিচিত আরো অনেক মানুষকে। ঝামেলা আরো ঘনীভুত হয় যখন “কাকে বেশি ভালোবাসবো” এই প্রশ্নটা আসে। বাবা না ভাই? মা না স্ত্রী? আমার যে বন্ধুটা ছোট্টবেলায় আমার অসুস্থতার সময় মাঠে খেলা বাদ দিয়ে আমাকে গল্পের বই পড়ে শোনাত, নাকি যে প্রথম পচিঁশ হাজার টাকা বেতন পেয়ে দশ হাজার টাকা নিয়ে এসে হাতে দিয়ে বলেছিল “তোর এখন টাকা দরকার - এটা রাখ”? কে পাবে অগ্রাধিকার?